ঘুম কী? পর্যাপ্ত ঘুম কেন প্রয়োজন


ঘুম কী 
ঘুম বা নিদ্রা বলতে বোঝায় যে, সারাদিন কর্মব্যস্ততার ফাকে বিশ্রাম নেবার ফাকে একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অন্যভাবে বলতে গেলে সচেতন ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া নিশ্চল থাকে। এই পৃথিবীতে যাদের প্রাণ আছে তাদের ঘুমানোর প্রক্রিয়া লক্ষ করা যায়। মানুষ ছাড়াও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রানী বিশেষ করে মাছ, পিপড়া, পাখি ইত্যাদি এদের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য ঘুম আবশ্যক। ঘুমানোর সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা এখনও পুরোপুরি জানতে পারে নি তবে এই নিয়ে অনেক গবেষণা চলছে। তবে হ্যা, ঘুমন্ত ব্যাক্তির চেহারাতে কোন এক অজানা আবেগ অনুভুতি কাজ করে৷  

মানুষের কেন ঘুমানো প্রয়োজন? 
প্রতিটা মানুষেরই ঘুমের প্রয়োজন। কেননা ঘুম মানুষের শরীরকে সতেজ করে তোলে এবং পরর্বতী দিনের কাজের জন্য তৈরী করে৷ যদি একদিন না ঘুমানো হয় তাহলে শরীরের ভেতর সতেজতা ভাব থাকে না, কাজের ভিতর কোন মন থাকে না। ঘুম মানুষের শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্ককেও চাঙ্গা রাখে। এই জন্যই আমাদের প্রতিদিন ঘুমের দরকার। 

মানুষের কত ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন 
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। তবে বয়সভেদে আছে ঘুমের তারতম্য। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের পরামর্শ অনুযায়ী, যারা শিশু অর্থাৎ যাদের বয়স ৬ - ৯ বছর তাদের কমপক্ষে ৯-১১ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। যাদের বয়স ১০-১৭ বছর তাদের প্রতিদিন ৮-১০ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। আবার যাদের বয়স ১৮-৬৪ বছরের মধ্য তাদের ৭-৯ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। আর যাদের বয়স ৬৫ এর অধিক তাদের প্রয়োজন ৭-৮ ঘন্টা ঘুমের।

ঘুম কম হলে কি সমস্যা হতে পারে 
ঘুম কম হলে শারীরিক ও মানসিক দুইভাবেই ক্ষতি। যদি ঘুম কম হয় তাহলে নতুন স্মৃতি তৈরীর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। "Why We Sleep" বই এর লেখক ম্যাথিউ ওয়াকার বলেছেন, ঘুম কম হলে মস্তিষ্কের "বিটা অ্যামিলয়েড" নামের এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোটিন তৈরী হয়। যখন আমরা রাতে ঘুমাতে যায় বা যখন আমরা ঘুমায় বা যেই সময়ই ঘুমায় তখন আমাদের শরীর মস্তিষ্ক থেকে "বিটা অ্যামিলয়েড" সহ বিভিন্ন রকমের ক্ষতিকর পদার্থ অপসরন করে।তাছাড়া ঘুম কম হলে অ্যালঝাইমার রোগের সৃস্টি হয়। ঘুম কম হলে ক্ষতিকর পদার্থ মস্তিষ্কে জমা হবে আর যত দিন যাবে তত ডিমেনশিয়া তৈরী হবে।

ঘুম কম হবার ক্ষতিকর দিক 
ঘুম কম হলে শরীরের উপর বিভিন্ন রকমের প্রভাব পড়ে। প্রথমত,প্রজননতন্ত্রের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ে।যেসকল পুরুষ প্রতিদিন রাতে ৫ - ৬ ঘন্টা ঘুমান তাদের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যায়। প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুমালে মানুষের চেহারাতে বার্ধক্যের ছাপ তৈরী হয়।

কম ঘুমের প্রভাব 
ঘুম কম হলে শরীরের উপর মারাত্মক ধরনের প্রভাব পড়ে। রক্তচাপ এর প্রাকৃতিক চিকিৎসক হলো গভীর ঘুম৷ মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে যায় তখন হার্টবিট এর কমে আসে এবং রক্তচাপ নেমে যায়। তাই যদি ঘুম পর্যাপ্ত পরিমানে না হয় তাহলে রক্ত সঞ্চালন এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। আর এই কারনের রক্তচাপ বেড়ে যায়। তাছাড়া হার্ট এটাক ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা ২০০% পর্যন্ত বেড়ে যায় কম ঘুম হলে৷ 

গবেষণা
টানা দুই বছর ১.৬ বিলিয়ন মানুষের উপর গবেষকরা গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন যে, ডেলাইট সেভিং টাইম চলাকালে যখন মানুষের ঘুমের সময় এক ঘণ্টা কমে যায়, তখন হার্ট অ্যাটাকের পরিমাণ ২৪% বেড়ে যায়।
তবে কোন ব্যক্তি যদি একটানা ১৬ ঘন্টা না ঘুমিয়ে কাটায় তাহলে সেই ব্যক্তি মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়তে শুরু করবে। আবার কেও যদি টানা ১৯-২০ ঘন্টা না ঘুমিয়ে কাটায় তাহলে তার মানসিক ও শারীরিক অবস্থা মাতালের মত হয়ে যায়।  আর এইসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে ও শারীরিক, মানসিক সুস্থ থাকতে হলে দরকার একটানা ৮ ঘন্টার একটা ফ্রেশ ঘুম।

1 মন্তব্যসমূহ

  1. আমার আগে ঘুমের সমস্যা ছিল অনেকদিন হলো আর সমস্যা হয় না।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন