অবসাদ থেকে সেরে উঠছেন কি না তা জানান দেবে এই ৮ লক্ষণ!

একটা মানুষ অবসাদ থেকে সেরে উঠেছে কি না সেইভাবে কোন কিছুই জানা যায় না। তবে কিছু কিছু লক্ষণ আছে যা দেখলে বুজতে হবে একজন ব্যক্তি অবসাদ থেকে সেরে উঠেছেন। আজ জানব সেই ৮ লক্ষণ যা দেখলে বুজতে হবে একজন মানুষ অবসাদ থেকে সেরে উঠেছেন ৷ মানসিক অবসাদ হচ্ছে যে কোন বয়সের মানুষের মধ্যকার একটা গুরুত্বপূর্ন সমস্যা। এইটা একটা সাধারণ সমস্যা, আর এই সাধারণ সমস্যাতেই কোটি কোটি মানুষ ভোগে। অনেক মানুষ আছে যারা আবার অবসাদের সাথে মন খারাপের বৈশিষ্ট্য গুলিয়ে ফেলেন। কিন্তু একটা জিনিস মাথায় থাকা দরকার যে,মন খারাপ ও মানসিক অবসাদ এই দুইটা জিনিস সম্পূর্ন ভিন্ন। অবসাদ এমন একটি সমস্যা যা মানুষের জন্য খুবই ক্ষতিকারক এবং দীর্ঘ সময়ব্যাপী এর চিকিৎসা।


অনেক সময় এই মানসিক অবসাদ মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। তাই আগে চিহ্নিত করতে হবে যে, কোনটা মানসিক অবসাদ। আবার এইটারও দেখার প্রয়োজন যে, মানুষ মানসিক অবসাদে ভুগছে কি না। যদি মানসিক অবসাদ এর ব্যাপারে জানার জন্য ইন্টারনেট বা গুগলে সার্চ করা হয় তাহলে একাধিক ওয়েবসাইট একাধিক জায়গায় অবসাদের কারণ ও অবসাদ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া জানা যাবে।কিন্তু অবসাদ থেকে সেরে ওঠার লক্ষণ সম্পর্কে সে ভাবে জানা যায় না। তাই অবসাদ থেকে সেরে ওঠার কয়েকটি লক্ষণ জেনে নিন।
১. শরীর খারাপ লাগার পরিমাণ কমে যাওয়াঃ মানসিক অবসাদে যখন একজন মানুষ ভোগে তখন কোন কারণ ছাড়ায় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। হতে পারে অস্বস্তি বোধ। আবার মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাবও হতে পারে। তাই এই সকল কিছুতে পরিবর্তন আসা এবং শরীরে খারাপ লাগার যে পরিমাণ সেটা কমে যাওয়া ইত্যাদি হচ্ছে মানসিক অবসাদ থেকে সেরে ওঠার অন্যতম লক্ষণ।
  ২.প্রতিদিনের কাজ বেড়ে যাওয়াঃ একটা মানুষের কাজে প্রভাব ফেলে মানসিক অবসাদ। কোন কাজ করতে ভাল লাগে না, ক্লান্ত লাগে শরীরের ভিতর এই সকল সমস্যাই হয়ে থাকে। কিন্তু যখনই অবসাদ থেকে সেরে উঠতে শুরু করা হয় তখন কাজে আবার মন বসতে শুরু করে। ভালো লাগে বেশী বেশী কাজ করতে। মনোবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন যে, যদি অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে হলে নিজেকে সব সময় কাজের ভিতর ব্যস্ত রাখতে হবে। ৩. সমাজে মেলামেশার পরিমাণ বেড়ে যাওয়াঃ অনেকেই আছে যারা মানসিক অবসাদের কারণে নিজেকে গুটিয়ে নেয়৷ সমাজে মেলামেশা করা অথবা সবার সাথে কথা বলাও বন্ধ করে দেয়। কিন্তু মানষটি যখন অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে শুরু করবে তখন সমাজে সে আবার মেলামেশা করতে শুরু করে। আবার মানুষের সাথে কথা বলতেও ভাল লাগে তার।
  ৪. নতুন কিছু করার ইচ্ছাঃ একটা মানুষ যখন অবসাদ থেকে সরে দাড়াতে শুরু করে তখন তার ভিতর নতুন নতুন কিছু করার ইচ্ছা জাগে। কারো যদি ভ্রমনের শখ থাকে তাহলে সেই শখ পূরণ করতে ইচ্ছা হয় অথবা বই পড়তে ইচ্ছা হয় অনেকের। ৫. স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ইচ্ছা হয়ঃ ক্লান্তি দূর হয়ে গেলেই স্বাস্থ্যবিধি ও প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন করতে ইচ্ছে করে। যেমন: ব্রাশ করা, প্রতিদিন গোসল করা, চুল আচড়ানো এবং জামা - কাপড় পরিষ্কার করার ইচ্ছা জাগে। ৬. কাজে ফেরার ইচ্ছা হওয়াঃ অনেক মানুষ আছে যারা অবসাদে ভোগার ফলে কাজ করা ছেড়ে দেয়। চাকরি ছেড়ে দিয়ে বাড়ি শুয়ে,বসে থাকার প্রবণতা দেখা দেয়। তবে মনে রাখতে হবে যে, কাজে ফিরতে ইচ্ছা হলেই বুজতে হবে অবসাদ থেকে মুক্তি মিলেছে।

৭. রান্না করতে ইচ্ছা হওয়াঃ রান্না করতে ইচ্ছা হওয়া এবং খাবার নষ্ট না করা অর্থাৎ ক্ষুধা লাগা অবসাদ থেকে মুক্তির একটা বড় লক্ষণ।
৮. সহজেই বিরক্ত না হওয়াঃ যখন মানসিক অবসাদে ভোগা হয় তখন খুব সহজেই মানুষ বিরক্ত হয়ে যায়, কোন কিছু ভাল লাগে না, ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলা, ফ্রাস্ট্রেশন ইত্যাদি হতে পারে। কিন্তু অবসাদ থেকে যখন সুস্থ জীবনে ফিরতে শুরু করা হয় তখন এইসব সমস্যা চলে যায়।

মন্তব্য করুন

নবীনতর পূর্বতন